নীরব স্পর্শ Episode: 12 থাকার ভাষা (শেষ পর্ব)

অনন্যা (Female POV)

সকালের আলোটা আজ নরম।
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আমি চা হাতে শহরটা দেখছিলাম। গত কয়েক মাসের কথা ভাবলে মনে হয়—সবকিছু খুব ধীরে বদলেছে। কোনো ঝাঁপ নেই, কোনো নাটক নেই। শুধু একটার পর একটা ছোট সিদ্ধান্ত।

অফিসে ঢুকে আরিয়ানকে দেখলাম। সে আগের মতোই—স্থির। কিন্তু আজ চোখে একটা প্রশ্ন আছে, যেটা সে অনেকদিন ধরে করে আসছে, শুধু শব্দ দেয়নি।

দুপুরে সে বলল,
— “আজ ছাদে বসব?”

আমি জানতাম—আজ কথার দিন।

ছাদে বাতাস কম। শহর পরিষ্কার। আমরা রেলিংয়ের পাশে দাঁড়ালাম। মাঝখানে কোনো টেবিল নেই, কোনো দেয়াল নেই। দূরত্বটাও আলাদা—খুব কাছেও না, খুব দূরেও না।

— “আমরা অনেকদিন ধরে একই গতিতে আছি,” সে বলল।

আমি মাথা নেড়ালাম।
— “কারণ আমরা তাড়াহুড়ো করিনি।”

সে একটু থামল।
— “আমি জানতে চাই—এই থাকাটার নাম কী?”

এই প্রশ্নটাই আজকের কেন্দ্র।

আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর বললাম,
— “থাকার জন্য নাম দরকার হয় না।”

সে তাকাল।
— “তবু আমি চাই—আমরা দু’জনেই জানি, কোথায় দাঁড়িয়ে আছি।”

আমি গভীর নিশ্বাস নিলাম।
— “আমরা পাশে আছি,” বললাম।
— “একে অপরকে চাপ না দিয়ে।”

এই কথাটার পর ওর কাঁধের ভঙ্গি নরম হলো।


আরিয়ান (Male POV)

আমি নাম চাইনি দাবি করার জন্য।
আমি নাম চেয়েছি দায়িত্ব বোঝার জন্য।

অনন্যার কথায় আমি সেটা পেলাম।

— “তাহলে আমরা পাশে থাকব,” আমি বললাম।
— “এইভাবেই। যতক্ষণ ঠিক লাগে।”

সে আমার দিকে তাকাল।
চোখে স্পষ্টতা।

— “ঠিক লাগা বদলালে?” সে জিজ্ঞেস করল।

আমি উত্তর দিলাম,
— “তখন বলব।”

এই বলা—এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।

আমি হাত বাড়ালাম না।
কারণ আজ স্পর্শের দরকার নেই।


অনন্যা (Female POV)

ছাদ থেকে নামার সময় আমি বুঝলাম—আজ কিছু চূড়ান্ত হলো। কিন্তু কোনো বন্ধন দিয়ে না। বরং বোঝাপড়া দিয়ে।

বিকেলে কাজ শেষে আমরা একসাথে বেরোলাম। বাইরে সন্ধ্যা। আলো জ্বলছে। হাঁটার সময় সে বলল,
— “আজ কফি?”

আমি হাসলাম।
— “আজ হাঁটাই যথেষ্ট।”

আমরা পাশাপাশি হাঁটলাম। হাত কাছাকাছি, কিন্তু আলাদা। এই আলাদাটুকুই আজ আমাদের শক্তি।

মোড়ের কাছে এসে থামলাম।
— “আজকেরটা ভালো লাগল,” সে বলল।

আমি বললাম,
— “কারণ আজ আমরা স্পষ্ট।”


আরিয়ান (Male POV)

ও চলে গেল।
আমি দাঁড়িয়ে রইলাম।

এই দাঁড়িয়ে থাকাটা শূন্য না।
পূর্ণ।

আমি জানি—এই সম্পর্কটা মানুষের চোখে সহজে ধরা পড়বে না। কোনো ছবি নেই, কোনো ঘোষণা নেই।

কিন্তু আমাদের আছে—
একই গতি,
একই সম্মান,
একই থাকার ভাষা।


সমাপ্তি

কিছু সম্পর্ক স্পর্শ দিয়ে নয়,
থাকা দিয়ে তৈরি হয়।

নীরব স্পর্শ
কখনো হাত ছোঁয় না,
তবু সবচেয়ে গভীরভাবে থাকে।


One thought on “নীরব স্পর্শ Episode: 12 থাকার ভাষা (শেষ পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *