অনন্যা (Female POV)
দিনগুলো একরকম লাগে—কাজ, কফি, স্ক্রিন।
তবু কিছু দিন আলাদা হয়। কারণ কেউ কথা না বলেও পাশে থাকে।
আজ প্রেজেন্টেশনের দিন। ভিড়, প্রশ্ন, আলো। আমি মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম, আর ভেতরে কোথাও একটা স্থিরতা কাজ করছিল। জানতাম, পিছনের সারিতে আরিয়ান বসে আছে। তাকাচ্ছে কি না জানি না—তবু উপস্থিতিটা টের পাচ্ছিলাম।
প্রেজেন্টেশন শেষ হলে হাততালি। আমি নিশ্বাস ছাড়লাম। তখনই সে আমার পাশে এসে দাঁড়াল। খুব কাছে না—কিন্তু যথেষ্ট।
— “ভালো ছিল,” সে বলল।
আমি তাকালাম।
— “ধন্যবাদ।”
এই ধন্যবাদটা কাজের জন্য, নাকি পাশে থাকার জন্য—আমি নাম দিলাম না।
করিডোরে হাঁটতে হাঁটতে সে জিজ্ঞেস করল,
— “কফি?”
আমি মাথা নেড়ালাম। আজ কথা কম লাগছে।
প্যান্ট্রিতে আমরা পাশাপাশি দাঁড়ালাম। মেশিনের শব্দ, কাপে ধোঁয়া। আমার হাতটা কাপ ধরার সময় একটু কাঁপল। সে দেখল। কিছু বলল না। শুধু নিজের কাপটা একটু সরিয়ে দিল, যেন জায়গা হয়।
এই ছোট জায়গা দেওয়াটাই আমাকে ছুঁয়ে গেল।
— “আজ তুমি চুপ,” সে বলল।
আমি হাসলাম।
— “চুপ মানে ফাঁকা না।”
সে মাথা নেড়াল।
— “আমি জানি।”
আমরা জানালার পাশে এসে দাঁড়ালাম। বাইরে রোদ, ভেতরে নরম ছায়া। আমি হাত দুটো জানালার ফ্রেমে রাখলাম। সে পাশে দাঁড়িয়ে রইল—একই দিকে তাকিয়ে। এই একই দিকে তাকানোটা অদ্ভুতভাবে ঘন।
আমার কনুই তার বাহুর খুব কাছে। স্পর্শ হলো না। তবু উষ্ণতাটা টের পেলাম। আমি সরে যাইনি। সেও না।
এই নাম না–দেওয়া অনুভূতিটাই আজকের সত্যি।
আরিয়ান (Male POV)
আমি বুঝি, কিছু দিন কথা কম হলে অনুভূতি বাড়ে।
আজ তেমনই।
অনন্যার প্রেজেন্টেশন দেখে আমি শান্ত বোধ করছিলাম। গর্বের মতো কিছু—কিন্তু সেটা নাম দেওয়ার দরকার নেই। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানেই সব বলা হয়ে যায়।
প্যান্ট্রিতে ওর হাতের কাঁপনটা চোখে পড়েছিল। আমি হাত বাড়াইনি। কারণ সব কাঁপন থামাতে হয় না—কিছু কাঁপনকে নিরাপদ রাখা দরকার।
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আমরা একই দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আমার শ্বাসটা ধীরে রাখতে চেষ্টা করছিলাম। কাছাকাছি থাকলে শ্বাস সচেতন হয়ে যায়—আমি সেটা শিখেছি।
— “তুমি কি কখনো নাম দিতে চাও না?” আমি হঠাৎ জিজ্ঞেস করলাম।
সে আমার দিকে তাকাল।
— “সব কিছুর নাম দিলে,” সে বলল,
— “কিছু অনুভূতি ছোট হয়ে যায়।”
এই কথাটা আমার ভেতরে কোথাও স্থির হয়ে গেল।
আমি বললাম,
— “তাহলে আজ নাম না থাকুক।”
সে হালকা হাসল।
— “আজ না।”
আমরা দাঁড়িয়ে রইলাম। সময় চলল। কেউ তাড়া দিল না। এই না–তাড়াটাই আজকের সবচেয়ে বড় ঘনত্ব।
অনন্যা (Female POV)
বিকেলে কাজ শেষ। আমি ব্যাগ তুললাম।
— “হাঁটব?” সে জিজ্ঞেস করল।
— “হাঁটি,” আমি বললাম।
রাস্তার ধারে আলো জ্বলছে। আমরা পাশাপাশি হাঁটছি। কোনো কথা নেই। তবু মন ভরা।
এক জায়গায় এসে আমি থামলাম।
— “এখান থেকে আমি।”
সে মাথা নেড়াল।
— “ঠিক আছে।”
আমি এক মুহূর্ত থামলাম।
— “ধন্যবাদ,” বললাম।
— “কিসের জন্য?” সে জিজ্ঞেস করল।
আমি বললাম না।
কারণ আজও নাম দেওয়ার দরকার নেই।
আরিয়ান (Male POV)
ও চলে গেল। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম একটু।
আমি বুঝলাম—এই নাম না–দেওয়া অনুভূতিটাই আমাদের গতি ঠিক করে দিচ্ছে।
ধীরে।
সম্মানের ভেতর দিয়ে।
⏭️ পর্ব ৭-এ কী আসছে?
Episode 7: “অল্প বৃষ্টি”
- হঠাৎ বৃষ্টি, একই ছাতা
- কাছাকাছি হাঁটা
- সীমা মানা অবস্থায় টান আরও গভীর
One thought on “নীরব স্পর্শ Episode: 6 নাম না–দেওয়া অনুভূতি”