নীরব স্পর্শ Episode: 9 একই ছন্দ

অনন্যা (Female POV)

কাজের দিনগুলো ইদানীং একটু ভারী।
ডেডলাইন, মিটিং—সবকিছু একসাথে এসে পড়ে। তবু আজ সকালে আয়নায় তাকিয়ে মনে হলো, ভেতরে কোথাও একটা স্থিরতা আছে। যেন কারও সঙ্গে তাল মিলেছে—অদৃশ্য, কিন্তু নির্ভরযোগ্য।

অফিসে ঢুকতেই আরিয়ানকে দেখলাম। সে মাথা তুলে তাকাল। কোনো হাসি না—শুধু চোখে একটা বোঝাপড়া। এই চোখের ভাষাটা আমাদের নতুন অভ্যাস।

মিটিং টেবিলে আমরা পাশাপাশি বসলাম। কাগজ, ল্যাপটপ—সবকিছু নিয়মমাফিক। তবু মাঝে মাঝে আমাদের কলম একসাথে নড়ছে, নোট একই সময়ে থামছে। অদ্ভুতভাবে একই ছন্দ।

এক পর্যায়ে আলোচনা গরম হলো। প্রশ্নের চাপ, সিদ্ধান্তের ওজন। আমি কথা বললাম—পরিষ্কার, মাপা। আরিয়ান আমার কথার ঠিক পরেই থামাল একটা অপ্রয়োজনীয় তর্ক। খুব স্বাভাবিকভাবে। যেন আগে থেকেই ঠিক করা।

মিটিং শেষে সে বলল,
— “ভালো সামলেছ।”

আমি বললাম,
— “তুমিও।”

এই “তুমিও”-র ভেতরে সমান অংশীদারিত্ব।


আরিয়ান (Male POV)

আমি দেখছিলাম, অনন্যা কীভাবে ভিড়ের মধ্যে নিজেকে পরিষ্কার রাখে। তার কথায় তাড়া নেই, কিন্তু দৃঢ়তা আছে। আমি জানতাম—এখানে আমার কাজ হলো জায়গা দেওয়া, ছায়া না ফেলা।

এক সময় আমাদের ফাইলগুলো গুলিয়ে গেল। আমি আমারটা ওর দিকে এগিয়ে দিলাম। সে বিনা কথায় নিল। আঙুলের দূরত্ব কম ছিল—স্পর্শ হয়নি। এই না-হওয়াটাই আজকের ঠিক জায়গা।

লাঞ্চ ব্রেকে আমরা ছাদে গেলাম। রোদ নরম। বাতাস ধীর।
— “আজ কথা কম,” আমি বললাম।

সে বলল,
— “কারণ তাল ঠিক আছে।”

এই উত্তরটা আমাকে হালকা করল।
তাল ঠিক থাকলে শব্দ কম লাগে।


অনন্যা (Female POV)

ছাদে দাঁড়িয়ে আমরা আলাদা আলাদা দিকে তাকালাম। কিন্তু মনোযোগ এক জায়গায়। ফোনে একটা মেসেজ এলো—কাজের। আমি পড়লাম, মাথা নেড়ালাম। আরিয়ান জিজ্ঞেস করল না। এই না-জিজ্ঞেস করাটাই আজকের সবচেয়ে বড় সহায়তা।

— “আজ সন্ধ্যায় রিপোর্টটা একসাথে দেখে নেব?” সে বলল।

আমি বললাম,
— “হ্যাঁ। আধঘণ্টা।”

— “ঠিক আছে,” সে বলল।
সময়, সীমা—সব পরিষ্কার।

সন্ধ্যায় আমরা একই টেবিলে বসলাম। কাগজ, নোট—আলো ঠিকমতো। আমাদের কাঁধের দূরত্ব পরিচিত। আমি পড়ছিলাম, সে লিখছিল। মাঝে মাঝে আমরা একে অপরের বাক্য শেষ করছিলাম—কথায় না, কাজে।

এক জায়গায় আমি থামলাম।
— “এখানে এটা বদলানো দরকার।”

সে তাকাল।
— “হ্যাঁ,” বলল,
— “তুমি যেমন বলছ।”

এই সম্মতিটা কোনো ছাড় না—সমন্বয়।


আরিয়ান (Male POV)

কাজ শেষ হলে আমি ঘড়ির দিকে তাকালাম। সময় ঠিকমতো শেষ।
— “এখানেই থামি,” আমি বললাম।

সে মাথা নেড়াল।
— “থামা জানা থাকলে এগোনো সহজ।”

আমি হাসলাম।
এই বাক্যটা ওর কাছ থেকেই শেখা।

লিফটের দিকে হাঁটতে হাঁটতে আমি বুঝলাম—আমরা আজ কাছাকাছি ছিলাম। কিন্তু উত্তেজনায় নয়, তাল মিলিয়ে। এই মিলটাই আমাকে নিশ্চিত করছে।

— “কাল?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

— “কাল,” সে বলল।
একই শব্দ, একই সুর।


অনন্যা (Female POV)

বাইরে রাত। বাতাসে শহরের ছন্দ। আমি হাঁটছিলাম, আর মনে হচ্ছিল—আজ কিছু আলাদা হয়নি। আর সেটাই সবচেয়ে ভালো।

একই ছন্দে থাকাই হয়তো সবচেয়ে গভীর কাছাকাছি।


⏭️ পর্ব ১০-এ কী আসছে?

Episode 10: “একটু দূরে”

  • ইচ্ছে করে রাখা দূরত্ব
  • ব্যস্ততার মাঝে পরীক্ষা
  • টান টিকে থাকে কি না—নীরব যাচাই

One thought on “নীরব স্পর্শ Episode: 9 একই ছন্দ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *