নীরব স্পর্শ Episode: 4 সীমারেখা

অনন্যা (Female POV)

সন্ধেটা নরম হয়ে এসেছিল।
অফিসের কাজ শেষ, তবু মনে হচ্ছিল—আজ বাড়ি ফিরতে তাড়া নেই। আরিয়ান বলেছিল, ছাদের কফি মেশিনটা আজ চালু আছে। কথাটা খুব সাধারণ, কিন্তু আমন্ত্রণটা আলাদা।

ছাদে বাতাস একটু ঠান্ডা। শহরের আলো নিচে জ্বলে আছে। আমরা রেলিংয়ের পাশে দাঁড়ালাম—পাশাপাশি, কিন্তু স্পষ্ট দূরত্ব রেখে। এই দূরত্বটা আমি ইচ্ছে করেই রাখি। কাছে এলে অনুভূতি স্পষ্ট হয়, দূরে থাকলে নিয়ন্ত্রণ থাকে।

— “এখান থেকে শহরটা শান্ত লাগে,” আমি বললাম।

আরিয়ান মাথা নেড়াল।
— “শান্তি দূরত্বে আসে,” সে বলল।
— “কাছে গেলে দায়িত্ব।”

এই কথাটা শুনে আমি ওর দিকে তাকালাম।
— “তাই তুমি সবসময় থামো?”

সে হালকা হাসল।
— “তাই আমি থামতে শিখছি।”

কফির কাপ দুটো থেকে ধোঁয়া উঠছিল। বাতাসে কফির গন্ধ, আর একধরনের সচেতনতা। আমরা কথা বলছিলাম কাজের বাইরে—ছোট ছোট বিষয়, যেগুলো নিজের ভেতরটা খুলে দেয় কিন্তু দরজা পুরো খুলে দেয় না।

একসময় বাতাস জোরে এলো। আমি কাঁধে শালটা টেনে নিলাম। আরিয়ান কিছু বলল না—শুধু নিজের জায়গায় স্থির রইল। এই না–বলা যত্নটাই আমাকে ছুঁয়ে গেল।

— “তুমি যদি এক কদম এগোও,” আমি ধীরে বললাম,
— “আমি এক কদম পেছাব।”

সে তাকাল।
— “আর আমি যদি থামি?”

আমি হাসলাম।
— “তাহলে আমিও।”

এই কথোপকথনটা কোনো খেলা না। এটা চুক্তি।


আরিয়ান (Male POV)

ছাদের বাতাসে অনন্যার শালের ভাঁজ নড়ছিল। আমি খেয়াল করলাম, কিন্তু হাত বাড়ালাম না। এই না–বাড়ানো হাতটাই আজকের সীমা।

আমি জানি, এক কদম এগোনো খুব সহজ।
কিন্তু থামা—এটা সিদ্ধান্ত।

— “তুমি সীমারেখা টানো খুব স্পষ্টভাবে,” আমি বললাম।

সে উত্তর দিল,
— “কারণ আমি ভাঙতে জানি।”

এই কথাটার গভীরতা আমি বুঝলাম।
আমি জানি, যদি সীমা ভাঙি, দোষ আমার হবে না—দায় আমার হবে।

আমরা রেলিংয়ের দিকে তাকিয়ে রইলাম। নিচে গাড়ির আলো চলেছে। সময় চলেছে।
— “তুমি ভয় পাও?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

সে একটু ভেবে বলল,
— “ভয় নয়। সচেতনতা।”

এই সচেতনতার পাশে দাঁড়ানো নিরাপদ, আবার তীব্রও।
আমি বললাম,
— “আমি তোমার পাশে থাকতে চাই—এই সীমার ভেতরেই।”

সে আমার দিকে তাকাল। চোখে কোনো দ্বিধা নেই।
— “তাহলেই ঠিক,” সে বলল।

বাতাস থামল। কফি শেষ হলো। আমরা দু’জনেই জানতাম—এখানেই থামা দরকার। থামাটাই আজকের অগ্রগতি।


অনন্যা (Female POV)

লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে আমরা আলাদা হলাম।
— “কাল,” সে বলল।

— “কাল,” আমি বললাম।

দরজা বন্ধ হওয়ার আগে আমাদের চোখ মিলল। কোনো প্রতিশ্রুতি নয়—শুধু সম্মতি। আমি জানি, এই সীমারেখা ভাঙলে গল্প বদলে যাবে। আর আমি চাই, গল্পটা ধীরে বদলাক।


আরিয়ান (Male POV)

লিফট নামতে নামতে আমি বুঝলাম—আজ কিছু জিতেছি।
কাছাকাছি গিয়ে নয়, থেমে গিয়ে।

সীমারেখা মানা মানেই দূরে থাকা না।
এটা পাশে থাকার অন্য নাম।


⏭️ পর্ব ৫-এ কী আসছে?

Episode 5: “অল্প আলো”

  • কাজের বাইরে ছোট একটা সন্ধ্যা
  • আলো–ছায়ার মধ্যে কথোপকথন
  • টান বাড়ে, সীমা অটুট

One thought on “নীরব স্পর্শ Episode: 4 সীমারেখা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *