অনন্যা (Female POV)
বিদ্যুৎ চলে গেলে শহরটা বদলে যায়।
অল্প আলো, কম শব্দ—সবকিছু হঠাৎ ধীর হয়ে পড়ে। অফিসের করিডোরে জরুরি লাইট জ্বলছে, ছায়াগুলো লম্বা।
আরিয়ান বলল,
— “জেনারেটর আসতে একটু সময় লাগবে।”
আমি জানালার ধারে দাঁড়ালাম। বাইরে অল্প আলোয় রাস্তা দেখা যাচ্ছে। এই অল্প আলোয় নিজের ভেতরের রেখাগুলোও স্পষ্ট হয়।
— “অল্প আলোতে জিনিসগুলো পরিষ্কার লাগে,” আমি বললাম।
সে পাশে এসে দাঁড়াল। খুব কাছে না—কিন্তু দূরেও না।
— “কারণ চোখ বাধ্য হয় মনোযোগ দিতে,” সে বলল।
আমাদের মাঝখানে টেবিলের কোণা। এই কোণাটাই আজ সীমা। আমি হাত রেখে দিলাম টেবিলে—ইচ্ছে করে। নিজের জায়গাটা চিহ্নিত করতে।
সে খেয়াল করল। কিছু বলল না।
অল্প আলোয় তার মুখটা নরম লাগছে। চোখে কোনো তাড়া নেই। এই অনুপস্থিত তাড়াটাই আমাকে শান্ত করছিল।
— “তুমি আজ আলাদা,” সে বলল।
আমি হাসলাম।
— “অল্প আলোতে মানুষ আলাদা দেখায়।”
সে একটু ভেবে বলল,
— “না। অল্প আলোতে মানুষ নিজেকে কম লুকোয়।”
এই কথাটা শুনে আমি চোখ নামালাম। কিছু সত্যি শব্দের ভার সহ্য করা যায় না।
আরিয়ান (Male POV)
অল্প আলোয় অনন্যার হাতটা দেখছিলাম। টেবিলে রাখা। আঙুলগুলো স্থির। আমি জানতাম—এই হাতের দিকে বাড়ালেই গল্প বদলে যাবে। তাই বাড়ালাম না।
আমি বললাম,
— “তুমি থামতে জানো।”
সে বলল,
— “কারণ আমি চাই—থামাটুকু যেন নিজের হয়।”
এই উত্তরটা আমাকে শিখিয়ে দেয়। কাছে যাওয়ার আগে সম্মতি শুধু কথায় না—আচরণে।
জেনারেটরের শব্দ দূরে শোনা গেল। আলো আসবে। এই মুহূর্তটা শেষ হবে। আমি চাইছিলাম, শেষ হওয়ার আগে এটাকে ঠিক জায়গায় রেখে দিতে।
— “চলো, কফি শেষ করি,” আমি বললাম।
সে মাথা নেড়াল।
অনন্যা (Female POV)
কফির শেষ চুমুকটা নিলাম। কাপটা রাখার সময় আমার কনুই তার হাতের কাছ দিয়ে গেল। স্পর্শ হলো না—কিন্তু কাছাকাছিটা টের পেলাম। আমি ইচ্ছে করে কনুইটা সরালাম না।
সে এক কদম পেছাল।
এই পেছানোটা আমাকে স্বস্তি দিল।
— “তুমি ভয় পাচ্ছ?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।
সে হালকা হাসল।
— “না। দায়িত্ব নিচ্ছি।”
এই দুই শব্দের মধ্যে কতটা ভরসা!
হঠাৎ আলো জ্বলে উঠল। করিডোর উজ্জ্বল। ছায়াগুলো সরে গেল। বাস্তবতা ফিরে এলো।
আমি জানালাম,
— “এখন যাই।”
— “আমি নামিয়ে দিই,” সে বলল।
আরিয়ান (Male POV)
লিফটে নামার সময় আয়নায় আমাদের দু’জনের প্রতিচ্ছবি দেখলাম। কাছাকাছি দাঁড়ানো—তবু আলাদা। আমি এই আলাদাটুকুকে সম্মান করি।
— “আজকেরটা ভালো লাগল,” আমি বললাম।
সে বলল,
— “আমারও। কারণ কিছুই অযথা হয়নি।”
দরজা খুলল। আমরা বেরোলাম। বাইরে রাত। বাতাসে শহরের উষ্ণতা।
— “কাল দেখা হবে,” আমি বললাম।
— “হ্যাঁ,” সে বলল।
একটুখানি থেমে যোগ করল,
— “এই গতিতেই।”
আমি মাথা নেড়ালাম।
এই গতিটাই ঠিক।
⏭️ পর্ব ৬-এ কী আসছে?
Episode 6: “নাম না–দেওয়া অনুভূতি”
- শব্দ ছাড়াই বোঝাপড়া
- কাজের ভিড়ে নীরব সমর্থন
- টান গভীর, সীমা অটুট
One thought on “নীরব স্পর্শ Episode: 5 অল্প আলো”